তোমার চলে যাওয়া
আমি হ্যা আমিই,, তেমন
একটা ভাল স্টুডেন্ট ছিলাম
না
তবে কবিতা লিখতে প্রচন্ড
ভালবাসতাম। এক সময় মনে হত এটাই আমার
পেঘা হয়ত।
কিন্তু এই কবিতাই
যে আমাকে এতটা নিস্তেজ
করে দেবে ভাবতেই পারিনি।
হ্যা যা বললাম সবি সত্যি। কিন্তু তুমি শুনছো তো????????
শুনতে না পেলে যে আমার
কিছু করার নেই।
আমাকে যে আজ বলতেই হবে।
আর যে জমানো কষ্ট
গুলো পেটের ভিতর চাপিয়ে রাখতে পারছি না।
হয়ত বা আর কিছুদিন পর পেট
ফেটে মরেই যেতাম।
প্রতিদিন ই ছাদে যেতাম।
রিতি মত সেটা যেন
একটা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেল। আমাদের বাসার
২টা বাসার পরেই
যে তোমাদের বাসাটা ছিল
সেটা আমি জানতাম ই না।
কিন্তু পড়তাম ২জন
একি কলেজে। কি কিছু কি বানিয়ে বলছি?????????
হয়ত বা!!!!!!
যদি তুমি না শুন????
বিস্বাস কর আমি প্রতিদিন
মন ভালো করার জন্যই
ছাদে যেতাম। কিন্তু তুমি ও যে তোমারবাসার
ছাদে আসতে সেটা কখনো খেয়াল
ই করিনি ।
দেখবো কোথা থেকে????????????????
কলেজে কারো সাতেই
মিশতে ভালো লাগত না। শুধু আমার সবচেয়ে প্রিয়
বন্ধুটা মানে বাপ্পিটাকে ছাড়া।
আমারমনে হত বাহিরের
জগতে ওইবুঝি আমার সব।
বাপ্পিটাও আমাকে অনেক
ভালোবাসতো। হঠাত একদিন কলেজ
থেকে ফেরার
পথে বৃষ্টি নেমে গেল।বাসের
জন্য অপেহ্মা করছিলাম।
হঠাত কোথা থেকে যেন আমার
সামনে এসে দাড়িয়েছিলে….. খেয়াল করিনি।………………….
বৃষ্টিতে ভিজে প্রায় একাকার
হয়ে আছ।তখন
মনে একটা কথাই বার বার
ধ্বনিত হচ্ছিল……..
কি ভাবে তোমার সাথে কথা বলা যায়??????????????????
কিন্তু তুমিযে আমাকে একদমই
অবাক তরে দিলে!!
আমি কথা বলার আগেই
তুমিবলে ওঠলে………………….
আরে আপনি এইখানে!!!!!!! বাসের জন্য অপেহ্মা করছেন
বুঝি?????????
- হুম বাসের জন্য
অপেহ্মা করছি ।
-
আপনি কোথা থেকে আসলেন?????? ভিজে তো দেখি একদম
একাকার হয়ে গেছেন???
আর বলবেন না।কলেজ
শেষে বন্ধুদের
সাথে আড্ডা দিতে দিতে কখন
যে এতটা সময় পার হয়ে গেল বুঝতেইপারিনি।আসতে আসতেই
বৃষ্টি নেমে গেল।
- ও আচ্ছা
এইতো বাস এসে গেছে !!!!
চলেন যাওয়া যাক???
একই বাসে ওঠলাম ২জন। ছিট যে একটাই খালি ছিল…..
আমি বললাম আপনি বসে যান।
দাড়িয়ে থাকলে হয়তো আপনার
প্রবলেম হতে পারে//
কিছু না বলেই
বসে গেল।।।।।।।।।।।।। – বাস থেকে নামছি…. ওর
পিছনেই আমি ছিলাম।
- অনেকটা বেকাপ মেন ও
বলতে পারেন।
হ্যা আপনার
বাসাটা কোনদিকে????? ও বলল আপনি দেখি কিছুই
জনেন না!!!!!!!
আপনার বাসার ২টা বাসার
পরেই আমার বাসা!!!!!!প্রতিদিন
তো ছাদে ওঠেন দেখি????
আমিতো প্রায় অবাক!!!!!এইমেয়ে তো দেখি আমায়
দেখেছে তাহলে ছাদে!!!!!!
সেইদিন আর কোন কথা হল
না…… ২জনেই ২জনের বাসার
চলে গেলাম……….
আজ সারাদিন ই বৃষ্টি হচ্ছে………
ছাদে যাওয়ার মতন কোন
অবস্থা নাই। মন পুরাই ১০০%
খারাপ। কি আর করমু ????
কবিতা লিখতে বসে গেলাম……
।। ।।
বৃষ্টি কেন তুই এতটা সময়
স্থায়ি হচ্ছিস???
যা না চলে যা আমার ছাদ
থেকে???
আজ যে ছাদটাকে ভিষন মিসকরছি………..
বিকেল বেলার
সাথী যে্ আমার ঐ ছাদটা…….
আর ভাল লাগছেনা কি আর
করার????? এভাবেই
থাকতে হল……….. তার পরদিন
কলেজে যাচ্ছিলাম……..
বাসা থেকে বের হয়েই
দেখি তুমি যাচ্ছ!!!!!
ডাকলাম তোমায় পিছন
থেকে…… মনি দাড়াও…………… তুমি পিছনে তাকিয়ে আমায়
দেখে দাড়ালে।
- তা কেমন আছেন?????
- ভাল আছি.. আপনি?????
- জি ভাল আছি।।।।।।
তারপর কথা বলতে বলতেই ২জন কলেজে গেলাম।।।।।
তখন তেকেই আমাদের
মধ্যে একটা বন্ধুতের সম্পর্ক
গড়ে ওঠতে লাগলো
অনেক ভাল বন্ধু হয়েগেলাম
২জন। প্রতিদিন কলেজ ছুটির পর
আমি ও আর আমার সেই প্রিয়
বন্ধুটা কলেজ
ক্যাম্পাসে আড্ডা দিতাম।
একদিন তুমি হঠাৎ আমার ফোন
নাম্বার চাইলে…আমি ও দিয়ে দিলাম।
তারপর থেকে আমাদের
প্রতিদিন ফোনেও কথা হত।
হঠাৎ একদিন
কলেজে বাপ্পিটা আসেনি!!!!!!
ফোন দেয়াতে বলল ‘আমি আমার গ্রামের
বাড়ি আসছি কুমিল্লায়।
আজ আমরা ২জন। প্রতিদিনের
মত আজও কলেজ শেষে আড্ডায়
বসলাম।
হঠাৎ আমি আমার বেগ থেকেএকটা কবিতার কাগজ
বের করে তোমায়
পড়ে শুনুতে লাগলাম।
তুমি যেন অবাক দৃষ্টিতেই
আমার দিকে তাকিয়ে রইলে।
আজ বসন্তেরি ফুলের মাঝে দেখি তোর ছায়া
কো বাধঁনে বাধলে তুমি্ একোন
জাদু মায়ায়?????? থাক আর বলছিনা।
।
আমার কবিতাটা তোমায়
কাছে এতই ভালো লেগেছিল
যে আপনাদের
তা বলে বুঝাতে পারবো না। তারপর প্রতিদিন ই ওর জন্য
একটা করে কবিতা লিখতাম।
পড়েও শুনাতাম ওকে আমার
কবাতা গুলো নাকি ওর
কাছে অনেক ভালোলাগতো।
। ধীরে ধীরে কখন যে আমি ওর
মনে অনেকটা জায়গা করে নিয়েছিলাম
ভাবতেই পারিনি।
হঠাত্ তুমি একদিন আমায়
বললে. . . . . .
অদিত তোমাকে আমার অনেক ভালোলাগে। আমি তোমায়
ভালোবেসে ফেলেছি।
আমি যেন অবাক দৃষ্টিতে ওর
দিকে তাকিয়ে রইলাম। কিছুই
বলতে পারলাম না ওকে।
। তারপর কি আর করার?
আমিও ওকে হ্যা বলেদিলাম।
কারন আমিও যে ওকে অনেক
ভালোবাসতাম।
ভয়ে এতদিনবলতে পারিনি যদি বন্ধুত্বটা নষ্ট
হয়ে যায়????? ।
ধীরে ধীরে আমাদের
বন্ধুত্বটা ভালোবাসায় রুপ
নিল।
গত ১৪ই ফেব্রুয়ারীর আগের
দিন মানে ১৩ই ফেব্রুয়ারী আমি তোমায়
একটা নীল শাড়ি গিফট
করলাম। তুমিও আমায়
একটা নীল পাঞ্জাবী গিফট
করলে। আর
বললে কালএটা পরে আসবে আমিও বললাম তুমিও কাল
ঐটা পরে এসো।
- হু আসবো বলতে হবেনা
তারপর দিন ১৪ই
ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা দিবস।
। দুজনেই দুজনের গিফট
করা শাড়ি আর
পাঞ্জাবী পরে আসলাম।
তবে তোমায় এখন বলিনি নীল
শাড়িতে তোমায় একদম নীল
পরির মতই লাগছিলো। ।
দুজনেই রেল লাইনের
ধারে হাতে হাত
রেখে অনেকক্ষন হাটলাম।
ভালোই কাটছিলো আমাদের
দিন গুলো। ।
হঠাত্ একদিন তুমি আমায় ফোন
করে বললে তোমার মাথায়
ভিষন ব্যাথা।
আমাকে না নিয়েই
তুমি তোমার আব্বুর সাথে ডাক্তারের
কাছে চলেগেলে।
ডাক্তার কি বললো আমায়
কিছুই বলনি তুমি।
তবুও তোমার মুখ
দেখে বুঝতে পারলাম কিছু একটা হয়েছে।
।
তারপর থেকে তুমি আমার
সাথে ভালো ভাবে কথা বলতে না।
আমায় সময় দিতেনা। সবসময়
আমাকে এড়িয়ে চলতে। ।
বিশ্বাস কর তাতেও আমার
কোন দুঃখ ছিলোনা। কারন
তুমিত শুধু আমায় ই ভালোবাস।
।
গত রোজার ঈদে আমি এবং আব্বু আম্মু
দুজনেই গ্রামের
বাড়ি চলেগেলামঐখানে ঈদ
করবো বলে। তুমি ঢাকাতেই
রয়েগেলে।
। বিশ্বাস কর
তোমাকে ছেড়ে যেতে আমার
একদম ইচ্ছে করছিলো না।
কিন্তু তবুও যেতে হল।
।
ঈদের আগের দিন রাতে তুমি আমায় ফোন
দিয়ে বললে অদিত আমার
মাথায় ব্যাথাটা আজও প্রচন্ড
বেড়ে গেছে।
।
আমার মন যে আর মানছিলো না।
ইচ্ছে করছিলো তখনি তোমার
কাছে চলে যাই। কিন্তু
এতো রাতে যে আসাআমার
পক্ষে সম্ভব ছিলোনা।
সেটা তুমি ভালোকরেই জানতে।
।
ডাক্তার তোমায়
তখনি বলেছিলো যে তোমার
ব্রেইন টিউমার।
কিন্তুতুমি আমায় একটি বারের জন্য ও বলনি।
।
তারপর ঈদের দিন
ভালোভাবেই কেটে গেলো।
তবে বিশ্বাস কর তোমায়
ঐদিন ভিষন মিস করেছি। ।
সারা রাত গ্রামের বন্ধুদের
সাথে আড্ডা মেরে ঘুমোতে ঘুমোতে প্রায়
৪টা বেজে গেলো।
তোমাকে ফোন দেয়ার
কথা আমার মনেই ছিলোনা। ।
তুমি বাশ্বাস কর সেই দিনের
পর থেকে আমি আজ পর্যন্ত
রাতে ঘুমাই নি।
।
সেইদিন ই রাতের জন্য শেষ ঘুম ঘুমিয়েছিলাম।
।
তারপর দিন ভোর
৬টা বাজেতোমার ফোন
থেকে কল
আসলোআমি ভেবেছিলাম হয়তো গুড মর্নিং জানানোর
জন্য ফোন দিয়েছো।
।
ফোনটা রিসিভ করে যেন
আমি আকাশ থেকে পরলাম।
। তুমি ফোন দাওনি তোমার ছোট
বোন জাহানের ফোন
।
।
।
ভাইয়া আপু আর নেই।!!!!;-) নিজেকে যে তখন
কিভাবে সামলে নিয়েছি হয়তো আমাকে ছাড়া আর
কেউ জানেনা।
।
কিন্তু ভাগ্যে যে থেমে নেই
অনেক দেরি করে ফেললাম। ছুটে গেলাম তোমার বাসায়
পাগলের মত।
।
কিন্তু শেষ বারের জন্য ও
তোমায় দেখতে পাইনি।
নিজেকে এখন বড়ও অপরাধী মনে হচ্ছিলো।
।
আর কিছু বলতে পারছিনা।
।
জান এখনো আমি কবিতা লিখি,
তবে সেই কবিতা আর আজ কারো মন ভালোকরে দেয়না।
সেই
কবিতা গুলো পড়লে আজসবাইর
মন খারাপ হয়ে যায়।
তোমার স্মৃতিগুলো যে কিছুতেই
ভুলতে পারিনা আমি যত ভুলতে চাই তত
বেশি মনে পরে যায়। তোমার
স্মৃতিগুলো প্রতাটা মূহুর্তে আমাকে কাদাঁয়।
।
ধানমন্ডির সেই ফুচকার
দোকানটা এখনো আছে। কলেজের সেই আড্ডা দেয়ার
ক্যাম্পাসটা ও এখনো আছে আর
সেই রেল পথটা ও
আরো আছে তোমার দেয়া সেই
নীল পাঞ্জাবীটা।
। শুধু তুমি নেই। তোমায় সেই
মায়াবী হাসিমাখা মুখটা আজও
আমাকে শিউরে তুলে।
তোমার
স্মৃতিগুলোকে মনে করে এখনো খুব
কাঁদি। ।
কি আর করবো বল ??????
ভুলতে যে পারিনা তোমায়।
।
এখন আর সেই
ছাদে যাওয়া হয়না।শেষ বারের জন্য ও তোমার
সাথে দেখা করতে পারলাম
না।
সারাটা জীবন হয়তো এই দুঃখ
টা নিয়েই
আমাকে বেচেঁ থাকতে হবে। ।
যদি পারো আমায়
ক্ষমা করে দিও। তবুও তোমার
জন্য অনেক ভালোবাসা রইলো।
।
ভালো থেকো তুমি সেই না ফেরার দেশে।